ইকোস অব এক্সাইল

This post is also available in: English Malay

সিনোপসিস/সারকথাঃ

ইকোস অফ এক্সাইল দুই প্রজন্মের দুই ট্রান্স নারীর গল্প বলে: একজন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রবীণ, এবং অন্যজন সাইবার হয়রানির শিকার ক্লোজেটেড ট্রান্স তরুণী। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড তথা বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট ভিন্নধর্মী হলেও তারা উভয়ই নিজ পরিবার এবং সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত এবং নির্বাসনের শিকার। ডিজিটাল হয়রানি এবং অনলাইন চরমপন্থা তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে যেভাবে প্রভাবিত করে, তা বোঝার চেষ্টা করেছে এই চলচ্চিত্র৷ একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ট্রান্স নারীদের সামষ্টিক সংগ্রামের গল্পও উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে।

পরিচালকের জীবনী

২৪ বছর বয়স্ক লামিয়া তানজিন তানহা একজন নারীবাদী, সামাজিক উদ্যোক্তা এবং অ্যাক্টিভিস্ট। ২০১৮ সালে তানহা ট্রান্স এন্ড প্রতিষ্ঠা করেন। ট্রান্স এন্ড তরুণদের দ্বারা পরিচালিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা বহুমূখী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে হিজড়া সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিতকরণে কাজ করেন। তানহার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু হয়, যখন তিনি ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের নিয়ে একটি স্টপ মোশন ভিডিও তৈরী করেন। অনলাইনে সাড়া ফেলা এই ভিডিওটি কোভিড মহামারীর সময় খুব বেসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করেন তিনি।

তানহা নিয়মিত ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ ও অনলাইন হয়রানির শিকার হলেও তিনি তার লক্ষ্য অর্জনে অবিচল। নিজের কাজের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরষ্কার পেয়েছেন, যার মধ্যে ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড (২০২১) এবং বাংলাদেশ সাস্টেইনেবিলিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তানহা আইভিএলপি ও অশোকা ইয়াং চ্যাঞ্জমেকার এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামের সাথে জড়িত। তানহা এমন একটি দুনিয়ার স্বপ্ন দেখে যেখানে সহানুভূতি ও ভালোবাসা রাজত্ব করবে। তিনি ধারাবাহিক ও ধীর অগ্রগতির মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে।

পরিচালকের বার্তা

“ইকোস অব এক্সাইল” দুই ট্রান্স নারীর গল্প, যারা ভিন্ন জীবন ধারা থেকে এলেও নির্বাসন এবং প্রত্যাখ্যানের অভিন্ন সংগ্রামের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। আমি দেখাতে চেয়েছি, ঐতিহ্য এবং প্রযুক্তি একত্রিত হয়ে যেভাবে ইতিমধ্যে নিপীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষতি করতে সক্ষম। এমন একটি দুনিয়া যা তাদের সবসময় সুরক্ষা প্রদান করে না (বিশেষ করে ওইসব জায়গায় যেখানে এলজিবিটিকিউ রাইটস খুব দূর্বল ও ভঙ্গুর), সেখানে ট্রান্স নারীরা প্রতিনিয়ত যেসব নীরব লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়, তা দেখানোই ছিল এই চলচ্চিত্রের উদ্দেশ্য। আমি আশা করি, এই চলচ্চিত্রটি ডিজিটাল হয়রানির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এমন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার জন্য যে শক্তি প্রয়োজন, তা ফুটিয়ে তুলতে পারবে।

Latest News in